দৈনিক বেলা

সারাদেশ

মৌলভীবাজার–৩ আসন, জোট সিদ্ধান্তে গণবিক্ষোভের আশঙ্কা!

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে চিহ্নিত মৌলভীবাজার–৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনয়ন সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা উপেক্ষা করে প্রার্থী নির্ধারণের অভিযোগে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ ভোটারদের অভিমত—এই আসনে আব্দুল মান্নান ছাড়া অন্য কাউকে দাঁড় করানো মানেই জোটকে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্থানীয় মানুষ প্রকাশ্যে বলছেন, “এই আসনে আব্দুল মান্নান না থাকলে জোটের ভোট ব্যাংক ভেঙে পড়বে।”বিএনপির নাসের রহমানকে ওয়াকওভার দেওয়ার আশঙ্কামাঠপর্যায়ের একাধিক জরিপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, বিএনপির প্রার্থী নাসের রহমান বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আব্দুল মান্নান নির্বাচন না করলে নাসের রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন—এমন আশঙ্কা এখন আর গোপন নয়।স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এটা এখন আর শুধু নির্বাচন নয়—এটা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই। এই আসনে ভুল সিদ্ধান্ত মানেই রাজনগর ও মৌলভীবাজারে জামায়াত-শিবিরকে দীর্ঘদিনের জন্য কোণঠাসা করা।”কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মাঠে বিদ্রোহের সুরকেন্দ্রীয় নেতা আহমদ বিলাল–কে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কার্যত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি তৃণমূল পর্যায়ে অপরিচিত, অনেক এলাকায় তাঁর নামই জানে না মানুষ, এমনকি এজেন্ট দেওয়ার মতো সংগঠনিক সক্ষমতাও নেই।স্থানীয় লোকজনরা বলেন,-“কাগজে-কলমে কেন্দ্রীয় পদ থাকলেই মাঠে ভোট আসে না। যারা মাঠের তথ্য উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সব জায়গায় সব সময় সঠিক হতে পারে না।”বিক্ষোভ, মিছিল ও ব্লকেডের প্রস্তুতিবিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মান্নানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা না হলে মৌলভীবাজার শহর ও রাজনগরে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল, বিক্ষোভ এমনকি ব্লকেড কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও প্রবল।ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত বিস্ফোরক রূপ নিচ্ছে।আঁতাত ও লেনদেনের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতিএদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুতর অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—আহমদ বিলাল জোটের প্রভাব ব্যবহার করে মনোনয়ন আদায় করেছেন এবং প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিতে গোপন আঁতাত হয়েছে। এমনকি অর্থ লেনদেনের কথাও লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও এই গুঞ্জন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট গঠনের উদ্দেশ্য যদি একসঙ্গে বিজয় নিশ্চিত করা হয়, তবে মাঠপর্যায়ের সক্ষমতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ছাড়া কিছু নয়।একজন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,“দলের ভোটেই যদি সব নির্ধারিত হতো, তাহলে জনগণের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। মাঠ হারিয়ে জোট টিকবে না।”মৌলভীবাজার–৩ এখন আর শুধু একটি আসন নয়—এটি জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা, দূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তৃণমূলের বক্তব্য: “ভোটার কেন্দ্রে যাবে মান্নান থাকলেই”সংবাদ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ও সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে একটি সুষ্পষ্ট পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে যদি ১০ দলীয় জোট থেকে আহমদ বিলাল মনোনয়ন পান, তাহলে জোটের নিয়মিত অনুসারীরা হয়তো ভোট প্রদান করবেন। তবে বাস্তবতা হলো—সাধারণ ভোটারদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি বড় অংশ কেবল তখনই কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী, যখন প্রার্থী হিসেবে এম আব্দুল মান্নান মাঠে থাকবেন।মাঠপর্যায়ের জরিপ ও জনসংযোগ কার্যক্রম বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোট টানার সক্ষমতার দিক থেকে এম আব্দুল মান্নান অন্য যে কোনো বিকল্প প্রার্থীর তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে। রাজনগর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও মানবিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।তৃণমূলের ভাষ্য অনুযায়ী,“এই আসনে প্রার্থী শুধু প্রতীকের বিষয় নয়—মানুষ কাকে বিশ্বাস করে, কার ডাকে ঘর ছেড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে, সেটাই আসল।”তাদের আরও আশঙ্কা, এম আব্দুল মান্নানকে উন্মুক্ত না রাখা হলে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারে, এমনকি বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হতে পারে—যা জোটের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—মৌলভীবাজার-৩ আসনে জনগণের পালস বুঝে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। তাদের ভাষায়, “ভোটের অঙ্ক কাগজে নয়, মাঠে লেখা হয়।” এদিকে ফেইসবুক ও সোস্যাল নেটওয়ার্কে চলছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।

 মৌলভীবাজার–৩ আসন, জোট সিদ্ধান্তে গণবিক্ষোভের আশঙ্কা!